সয়াবিন কতটা পুষ্টিকর?

  



ভুমিকা 

সয়াবিন একপ্রকার শুঁটিজাতিও ফসল। প্রধানত এশিয়া মহাদেশের চিনেই এর প্রথম উৎপত্তি তবে ভারত এবং তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও সামান্য পরিমান সয়াবিনের চাষ করা হয়। সুতরাং শুধুমাত্র এশিয়া নয় প্রায় সব দেশেই সর্বত্র সয়াবিনের জোগান রয়েছে। যে কোনো দিক থেকেই সয়াবিন পুষ্টিগুণে ভরপুর, অতএব যারা মাছ, মাংস, ডিম খান না তাঁদের ক্ষেতে এটি অমৃততুল্য। আরও একটি তথ্য থেকে পাওয়া গেছে যে সয়াবিনেই নাকি সবথেকে বেশি প্রোটিন রয়েছে, তাই প্রতিদিন আমাদের খাদ্যতালিকার মধ্যে সয়াবিন রাখা দরকার।

আকার 

সয়াবিনের বীজগুলো আকারে গোলাকার প্রকৃতির হয়। এই বীজগুলো কাঁচায় সবুজ রঙের ও আর একটু পাকলে হলুদ এবং বাদামি রঙের হয়ে যায়। 

ভুমিকার অন্তিম অংশ 

পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সয়াবিনকে বিভিন্নভাবে খাদ্য হিসাবে গ্রহন করা হয়, যেমন- সয়াবিনের দুধ, দই, ছানা প্রভৃতিভাবে। তবে আমরা সবাই জানি কোনোকিছুই বেশি মাত্রায় খাওয়া উচিত নয় অতএব সয়াবিনও তার বিপরীত নয়, তাই কোনো কোনো রোগীদের ক্ষেতে এটি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই খাওয়া উচিত। তো সয়াবিনের মধ্যে কি কি পুষ্টিগুণ থাকে চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক।

পুষ্টিগুণে সয়াবিন 

১। সয়াবিনের প্রোটিনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে যা আমাদের দেহের বৃদ্ধি ও গঠনে কার্যকরী ভূমিকাপালন করে।

২। সয়াবিনে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-এ, বি, সি, ডি,ই ,ফাইবার প্রভৃতি থাকায় রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং দেহের শক্তি বাড়ায়।

৩। এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী জেস্টিনিন ও ডায়াডজিন থাকায় ব্রেস্ট ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সারের সংক্রমণ থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়।

৪। সয়াবিনে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের ব্লাডসুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রনে রাখে।

৫। যাঁদের গোরুর দুধে অ্যালার্জি আছে অর্থাৎ যারা গোরুর দুধ খেতে পারেন না তাঁরা সয়াবিনের দুধ খেতে পারেন দেখবেন এই সমস্যা আর হবে না।

৬। সয়াবিন দুধে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট থাকে, ফলে মানুষের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবনতা বহুগুন হ্রাস পায়।

৭। সয়াবিনের তেলের তৈরি রান্না খাওয়া অত্যন্ত উপকার কারন সয়াবিনের তেলে থাকে লিনোলেয়িক ফ্যাটি অ্যাসিড যার ফলে পেশির বল বৃদ্ধি পায় এবং ব্লাড পেশার নিয়ন্ত্রনে থাকে।

৮। যাঁদের ছোট বাচ্ছা আছে অর্থাৎ মা এবং ছেলে দুজনেই যদি অপুষ্টিতে ভুগেন তাহলে তাঁরা সয়াবিনের দুধ, দই, ছানা খেতে পারেন দেখবেন অনেকটা উপকার পাবেন।

৯। সয়াবিনে একপ্রকার রেডিও প্রোটেকটিভ ক্ষমতা থাকে যা আমাদের চোখের সমস্যার সমাধান করে ও চোখের দৃষ্টিশক্তিকে বাড়ায়।

১০। সয়াবিন দেহের বাড়তি ওজন কমাতে সক্ষম।

১১। অনেকের সহজেই ভুলে যাওয়ার সমস্যা আছে তো তাঁরা রোজ সয়াবিন খাবেন কারন সয়াবিনে লেসিথিন থাকে যা ভুলে যাওয়া রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। 





Post a Comment (0)
Previous Post Next Post